ছুরির প্রতি নজর দিন

রোগ-জীবাণু প্রতিরোধে খাবার তৈরি বা খাওয়ার আগে সাধারণত হাত ধোয়ার পরামর্শ নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু রান্নাঘরে ব্যবহূত ছুরির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ফুড সেফটির গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে ফুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ভাইরোলজি সাময়িকীতে।
পরীক্ষার জন্য খুব অল্প মাত্রায় হেপাটাইটিস এ এবং নরোভাইরাসযুক্ত ছয় ধরনের ফল ও সবজি নতুন ছুরি ও গ্রেটার (ঘষে কুচি করার যন্ত্র) দিয়ে কাটা হয়। এতে দেখা গেছে, ব্যবহূত সরঞ্জামের অর্ধেকের বেশিতে ওই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এসব যন্ত্র দিয়ে পরে অন্য সবজি বা ফল কাটলে সেগুলোও সংক্রমিত হয়।
গবেষকেরা দেখেছেন, শসা, স্ট্রবেরি, টমেটো, গাজর বা মুলা, ফুটি এবং একজাতীয় তরমুজ কাটার পর ছুরিতে আঠালো জাতীয় পদার্থ তৈরি হয়। খাঁজযুক্ত, খাঁজছাড়া, অত্যন্ত ধারালো কিংবা যেকোনো ধরনের ছুরি দিয়ে কাটা হোক না কেন, ব্যবহারের পর তা না ধোয়া হলে ওই আঠালো পদার্থ থেকে যায়।
প্রতিটি ফল বা সবজি কাটার পর ছুরি ও গ্রেটার ধোয়ার পরামর্শ দিয়ে গবেষকেরা বলছেন, নোংরা হয়নি, এটা ভেবে তা রেখে দেওয়া উচিত নয়। বাসন ধোয়ার মতো তাপমাত্রার পানি নিয়ে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস।

সফল ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিংয়ের অপরিহার্য ৫ উপাদান

কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ার অর্জনে নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথায় আছে ‘চাকরি পেতে মামার জোর লাগে’। আর নেটওয়ার্কিং এই মামা সৃষ্টিতে বেশ সহায়ক। সুতরাং বুদ্ধিমানের কাজ হলো নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে মামা সংগ্রহ করা। আর কাক্সিত চাকরি বা পদটি বাগিয়ে নেয়া। আবার ব্যবসায়ে সফলতা অর্জনের জন্যও নেটওয়ার্কিংয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু কীভাবে তৈরি করবেন নেটওয়ার্ক? নেটওয়ার্ক সৃষ্টিতে অপরিহার্য ৫ উপাদান আলোচিত হয়েছে এই নিবন্ধে।
১. বিজনেস কার্ড
বিজনেস কার্ড। যাকে আমরা ভিজিটিং কার্ড হিসেবেই বেশি চিনি। বর্তমান ডিজিটাল যুগেও ছোট এই জিনিসটি বেশ গুর”ত্বপূর্ণ। কারো সাথে নতুন পরিচয়ের ক্ষেত্রে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে কাউকে দেয়ার মতো কোনো জিনিস আপনার থাকা চাই। আর সেটি হতে পারে আপনার বিজনেস কার্ড। কারণ, আপনি অনুষ্ঠান থেকে চলে গেলেও আপনার কার্ডটি থেকে যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে। আর তাঁকে আপনার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে এই কার্ড।
আপনি যদি শিক্ষার্থী বা বেকার হোন তবে কার্ডে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা উল্লেখ কর”ন। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কিংবা নিজেরই কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে তবে নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল  ঠিকানা ছাড়াও আপনার পদবি এবং প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে ভুলবেন না। মাত্র আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ টাকায় ১ হাজার কার্ড তৈরি করা যাবে।
২. ব্যক্তিগত ইমেইল অ্যাড্রেস
নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যক্তিগত ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার নিশ্চিত করুন। কখনোই প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করবেন না। কারণ আজ আপনি যেখানে চাকরি করছেন, কাল সেখানে চাকরি না-ও করতে পারেন। সুতরাং নেটওয়ার্কিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যবসায়িক ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করবেন না। তাছাড়া আপনার সম্পর্কে বিশেষ পরিচয় প্রদান করে এমন ঠিকানাও ব্যবহার করবেন না। যেমন : foodie327@ অথবা talk2susie@ ইত্যাদি। তবে আপনার পেশাগত পরিচয় বহন করে এমন শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন : journalist@। প্রতিষ্ঠান নিজের মালিকানাধীন হলে প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন। তবে একান্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা থাকা বাঞ্ছনীয়।
৩. সামাজিক মিডিয়ায় উপস্থিতি
বর্তমানে কারো সাথে প্রথম পরিচয়ের পর অধিকাংশ মানুষই আপনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোঁজ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ফেসবুক, টুইটার, বিশেষ করে LinkedIn প্রভৃতি নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যান। LinkedIn একটি প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক। এতে আপনার প্রোফাইল না থাকলে আজই একটি তৈরি করুন। আর প্রোফাইল থাকলে আপ টু ডেট রাখুন। এখানকার গ্রুপগুলো ইগনোর করবেন না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ অ্যালামনাই কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক গ্রুপগুলোতে নিজেকে সংযুক্ত রাখুন। এসব গ্রুপ চাকরি খোঁজার বেশ উপযুক্ত স্থান।
এছাড়া ফেসবুক গ্রুপ কিংবা পেইজেও বিভিন্ন চাকরির খবরাখবর পাওয়া যায়। এগুলো কারো সাথে যোগাযোগের উত্তম জায়গাও বটে। তবে কোনো পোস্ট বা ছবি আপলোডের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কেননা কোনো কোনো চাকরিদাতা এখন ফেসবুকে আপনার প্রোফাইল ও স্ট্যাটাস দেখে আপনার ‘স্ট্যাটাস’ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
৪. আপ টু ডেট সিভি
নিজের ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটি আপ টু ডেট সিভি রাখুন। নিজের কম্পিউটার না থাকলে বন্ধু-বান্ধব বা অন্য কারো কম্পিউটারে আপডেট করে পেনড্রাইভে রাখতে পারেন। এমনকি আপনি যদি এখনই চাকরিপ্রত্যাশী না হন তবুও। কারণ যে কোনো সময় আপনার দরকার হতে পারে। আর আগামী দিনের প্রস্তুতি কখনো ক্ষতিকর হয় না। এমনও হতে পারে যে, কোনো অনুষ্ঠানে একজনের সাথে আপনার সাক্ষাৎ হলো যিনি আপনার কাছে সিভি চাইলেন। আর আপনি তা আপডেট করে দেবেন বলে এক সপ্তাহ দেরি করলেন!
৫. সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি
সর্বশেষ উপাদান কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বা অ্যাটিচিউড। যিনি আপনাকে সাহায্য করবেন এমন কাউকে খোঁজার পরিবর্তে আপনি যাকে সাহায্য করবেন তাকে খুঁজুন।
সুযোগসন্ধানী লোকের ব্যাপারে মানুষ সতর্ক থাকে। তাই কারো বিজনেস কার্ড সংগ্রহ করে কোনো সুযোগ বা আনুকুল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে তা ব্যবহারের পরিবর্তে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
নেটওয়ার্ক রাতারাতি তৈরি করার কোনো বিষয় নয়। আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই চাকরি পাওয়া বা ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। জীবনের সকল ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক তৈরিই সফল নেটওয়ার্কিংয়ের গোপনসূত্র।

Interview for Jobs

এড়িয়ে চলুন কয়েকটি মারাত্মক ভুল

বর্তমান চাকরির বাজারে চাকরি পাওয়া যেন সোনার হরিণ। চাকরির জন্য ছুটতে ছুটতে আপনি হয়তো ক্লান্ত। জীবনে অনেক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, অনেক সময় ভেবেছেন এবার চাকরিটা হয়েই যাবে। কিন্তু ডাক আসেনি। মনে ভর করেছে হতাশা। কিন্তু আসলে সমস্যাটা কী?
১. ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাশীলতার প্রমাণ না দেয়া
সাক্ষাৎকারের সময় প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর হতে হবে যথাযথ ও সমৃদ্ধ। ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে অনুমান নির্ভর উত্তর না দেয়াই ভালো। কারণ,  চাকরিদাতারা রোবটের মতো উত্তর চান না। সুতরাং উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিত্ব, সততা ও চিন্তাশীলতার প্রমাণ দিন।
২. ‘না-বোধক’ উত্তর দেয়া
আপনি কি কাজটি করতে পারবেন? আপনি কি চাকরিটি চান? আপনি কি এ কাজের যোগ্য? প্রশ্ন তিনটি একজন চাকরিদাতার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাই এ প্রশ্নগুলোর উত্তরে ‘না’ শব্দ ব্যবহারের মতো ভুল করা থেকে বিরত থাকুন।
৩. জব সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকা
ইন্টারভিউ বোর্ডে যাওয়ার আগে আপনি যে পদের জন্য সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন সে পদে আপনার ভূমিকা ও কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, অর্জন, মূল্যবোধ, পণ্য বা সেবা, গ্রাহক ইত্যাদি সম্পর্কে জানুন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে গবেষণা করুন। সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগ, প্রকাশনা, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক-টুইটারের সাহায্য নিন।
৪. আপনার দক্ষতা সম্পর্কে না জানানো
ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট কোনো অভিজ্ঞতার কথা বলার চেয়ে কীভাবে আপনার দক্ষতার ব্যবহার করেছেন কিংবা ফল অর্জন করেছেন তা কৌশলে বলে দেয়ার চেষ্টা করুন।
চাকরির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিছু উদাহরণ আপনার জীবন থেকে বাছাই করুন। এর আগেই উদাহরণগুলো আপনার সিভিতে সংক্ষেপে উল্লেখ করবেন। সাক্ষাৎকারে তা ব্যাখ্যা করুন। তবে উদাহরণগুলো যেন প্রাসঙ্গিক হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকুন। কেননা অপ্রাসঙ্গিক উদাহরণ আপনার ব্যক্তিত্বকে খাটো করবে। আর সবার জন্য বিরক্তির কারণ হবে।
৫. কেন চাকরিটি চান তা না জানা
প্রবল আগ্রহ ও প্রচেষ্টার অভাবে আপনি হারিয়ে ফেলতে পারেন প্রত্যাশিত চাকরিটি। আপনাকে অবশ্যই বলতে হবে কোম্পানির চাওয়া ও আপনার ভূমিকা সম্পর্কে। আপনার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানাতে ‘আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন’-এই প্রশ্নটিকে কাজে লাগান। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চিন্তার ব্যাপারে প্রশ্নের জন্য প্রস্তুতি নিন। সুন্দর, গোছালো ও চিন্তাশীলতার সাথে প্রশ্নটির উত্তর দিন। উচ্চাভিলাসী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করুন। তবে অতিমাত্রায় নয়।
৬. নেতিবাচক শারীরিক ভাষা
সাক্ষাৎকারের সময় নেতিবাচক শারীরিক ভাষার কারণেও আপনার সাধের চাকরিটি হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। সেজন্য আপনার ওঠা, বসা, প্রশ্নের উত্তর দেয়া সব ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী হোন।
৭. অপেশাদার মন্তব্য
কারো ব্যাপারে অভিযোগকারী কোনো সহকর্মীর সাথে সাধারণত কেউ কাজ করতে চায় না। সেজন্য আগের অফিসের ব্যবস্থাপক বা সহকর্মী সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করবেন না। বরং সবার সাথে মিলে মিশে কাজ করদেত পারবেন সেটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করুন।
৮. ফলোআপ না করা
সাক্ষাৎকারের পর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে চাকরিদাতাকে চিঠি পাঠানো নিজেকে উপস্থাপনের কার্যকর পন্থা হতে পারে। প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে যদি প্রতিষ্ঠান কোনো সিদ্ধান্ত না জানায়, তবে ফলোআপ চিঠি আপনার দৃঢ়তা ও এগিয়ে থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করবে।

বৃত্তি নিয়ে ভারতে পড়ার সুযোগ

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স (ICCR) ভারত সরকারের একটি স্বায়ত্বশাসিত সংগঠন। এটি ভারতের বৈদেশিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে থাকে। স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৯৫০ সালের ৯ এপ্রিলে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ICCR এর অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে এর বিভিন্ন স্কলাশিপ প্রোগ্রাম। প্রতিবছর ২১টি স্কলারশিপ স্কীমের আওতায় বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ছাত্রদের ২০০০ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। যার অধিকাংশই এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশ। ICCR তার নিজস্ব স্কলারশিপ স্কীম পরিচালনা ছাড়াও ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে অন্যান্য স্কীমের জন্য একটি সংস্থা হিসেবেও কাজ করে। দেশ ভিত্তিতে বৃত্তির পরিমাণ যদিও উল্লেখ করা থাকে না। তবে, সাধারণত এ বৃত্তিতে ৫০-৬০ জন বাংলাদেশী ছাত্র প্রতিবছর সুযোগ পেয়ে থাকে। অবশ্য এর বিপরীতে বহুগুণ আবেদন করে।
এ বৃত্তি গ্রহণকারীদের থাকা-খাওয়া সব খরচ বহন করে ICCR কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সব ছাত্রের জন্য হলে থাকার ব্যবস্থা আছে। শিক্ষার্থীকে শুধু যাতায়াত খরচ বহন করতে হয়। টিকিট জমা দিলে সে খরচও দেয় ICCR কর্তৃপক্ষ। তাই আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেট অর্জনে প্রত্যাশী ছাত্ররা এ বৃত্তি গ্রহণ করতে পারেন।
এ বৃত্তি সাধারণত দুটি শ্লটে বা সময়ে দেয়া হয়ে থাকে। ভারতের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য নির্বাচিতদের ক্লাস শুরুর সময়ের ওপর নির্ভর করে দুটি শ্লটের বিষয় আসে, তবে বৃত্তির ক্ষেত্রে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য ICCR এর স্কলারশীপ স্কীমগুলো হলো:
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স (ICCR) স্কলারশীপ স্কীম
বিভিন্ন ভারতীয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশীদের জন্য সুযোগ আছে আন্ডার গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট, এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ লেভেলে।
বাংলাদেশ স্কলারশিপ স্কীম
ICCR এ স্কীমের আওতায় বাংলাদেশী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান করে আন্ডার গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট, এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চ লেভেলে। এ স্কীম শুধু বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য সংরক্ষিত এবং এর আওতায় সুযোগ পাওয়া অন্যান্য স্কীমের চেয়ে সহজ।
সার্ক চেয়ার/ফেলোশিপ/স্কলারশিপ স্কীম
ICCR সার্ক স্কলারশিপ স্কীম এর অধীনে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউটগুলোতে আন্ডার গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট লেভেলে বাংলাদেশ থেকে বৃত্তি প্রদান করে।
AYUSH স্কলারশিপ স্কীম
বাংলাদেশসহ বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর জন্য ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে মোট ১৫ টি বৃত্তি প্রদান করা হয় AYUSH বিভাগের পক্ষ থেকে। যার অন্তর্ভুক্ত হলো আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথির মতো বিষয়।
এছাড়া  জেনারেল কালচারাল স্কলারশীপ স্কীম, কালচারাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, কমনওয়েলথ স্কলারশীপ/ফেলোশিপ প্লান প্রভৃতির আওতায়ও বাংলাদেশী ছাত্ররা আবেদন করতে পারেন।
আবেদনের জন্য যোগাযোগ
আবেদন করতে IELTS এর বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হবে এবং সাধারনত ১ ঘন্টার একটি ইংলিশ টেস্ট নেয়া হয়। স্নাতকে আবেদনের জন্য এইচএসসিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ফলাফল বিবেচনা করা হয়। অনুরূপভাবে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি কোর্সের ক্ষেত্রেও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী থাকা প্রয়োজন। বৃত্তির জন্য আবেদন করার পর লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ পাওয়া যায়, এরপর মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করলেই ভিসার পথ পরিস্কার হবে।
আবেদনের সুযোগ দেয়া হয় বিভিন্ন স্কীমে বিভিন্ন সময়ে। যেমন ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ স্কলারশিপ স্কীমে সময়সীমা ছিল ৮ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত, সার্ক স্কলারশিপ স্কীমে ১২ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগ্রহীরা পরবর্তী ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সুযোগ নিতে পারেন।
এ বৃত্তির আবেদনপত্র ও অন্যান্য তথ্যের জন্য ভারতীয় হাইকমিশনের এডুকেশন উইং-এ যোগাযোগ করতে হবে। হাউজ: ২, রোড নং: ১৪২, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।
এছাড়া অ্যাসিসটেন্ট হাইকমিশন অফিস থেকেও ফর্ম সংগ্রহ করা যায়। ঠিকানা: হাউজ: ২১১, কুলসি,চট্টগ্রাম এবং হাউজ: ২৮৪/২, হাউজিং স্টেট, সপুরা উপশহর রাজশাহী।

how possible online journal

কিভাবে হবেন অনলাইন সাংবাদিক?

অনলাইন সাংবাদিকতা বলতে বোঝায় ইন্টারনেট পত্রিকা বা গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা। বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া এ ব্যাপারে বলা হয়েছে- Online journalism is defined as the reporting of facts produced and distributed via the Internet.
অনলাইন সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য
১. তাৎক্ষণিকতা
যে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই রেডিও টিভির মতো এতে প্রকাশ করা যায়। আবার মেইলে খবরের আপডেট পাঠানোরও সুবিধা আছে। গুগল ফিডবার্নারসহ বিভিন্নভাবে এটা করা সম্ভব।
২. স্থায়িত্ব
অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। প্রকাশিত রিপোর্টগুলো আর্কাইভ করে রাখার ব্যবস্থা থাকায় তা যে কোনো সময় দেখা যায়। অন্য যে কোনো মিডিয়ার (প্রিন্ট, রেডিও ও টিভি) চেয়ে এটা খুঁজে বের করা অনেক সহজ।
৩. উপভোগ্য
অনলাইন সংবাদপত্রে লেখার পাশাপাশি গ্রাফিক্স, অডিও, গান, ভিডিও ফুটেজ ও অ্যানিমেশন সংযুক্ত করা সম্ভব। ফলে এটা উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
৪. ইন্টার-অ্যাকটিভ (interactive)
অনলাইন সাংবাদিকতা একটি ইন্টার-অ্যাকটিভ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পাঠকের মতামত জানা ও পাঠককে নিজের মতামত দ্বারা প্রভাবিত করার সুযোগ বিদ্যমান। এখানে একটি লেখার সঙ্গে একই বিষয়ের অন্যান্য লিংক প্রদান করা যায়। ফলে পাঠক খুব সহজেই একই বিষয়ে অন্যান্য লেখা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। তাছাড়া এতে লেখার সূত্র উল্লেখ করা যায় বিধায় পাঠক রিপোর্টের বা লেখার বস্তনিষ্ঠতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে।
৫. পূর্ণাঙ্গ, সমৃদ্ধ ও সর্বশেষ সংবাদ পরিবেশনা
অনলাইন সংবাদপত্রে জায়গার কোনো সমস্যা নেই। কিংবা রেডিও টিভির মতো সময়েরও সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে একজন অনলাইন সাংবাদিক তার স্টোরিকে বিভিন্ন তথ্যে সমৃদ্ধ করে প্রকাশ করতে পারেন। আবার প্রিন্ট মিডিয়ায় একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে তা আর সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনলাইনে এ ধরনের সমস্যা নেই। এ জগতের সাংবাদিকরা ঘটনা ঘটার সঙ্গেই তা আপডেট করে দিতে পারেন।
প্রিন্ট মিডিয়ায় সাংবাদিকতার ওপর ইন্টারনেটের প্রভাব
প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মী, সাংবাদিক ও সম্পাদকদের কাছে ইন্টারনেট বর্তমানে সময় বাঁচানো গবেষণাসম্পদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিশেষ করে কোনো বিষয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড জানার ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ইন্টারনেটে প্রিন্ট ও সম্প্রচার মিডিয়ার বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ, কলাম, ধারাবাহিক ফিচার পাওয়া যায়, যা জ্ঞানার্জনে অনেক সহায়ক হচ্ছে।
কিভাবে শুরু করবেন অনলাইন সাংবাদিকতা?
প্রথম স্তর
১. প্রথমেই আপনাকে সাংবাদিকতার প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। কীভাবে সংবাদ লিখতে হয়, সংবাদের উপাদানগুলোই বা কী ইত্যাদি। সেটা আপনি বই পড়ে জানতে পারেন। তাছাড়া এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোর্সের আয়োজন করছে। সেখানেও অনেক কিছু জানার আছে।
২. আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার চালানো শিখতে হবে। এমএস ওয়ার্ডে বাংলা ও ইংরেজি লিখতে জানতে হবে। তাছাড়া ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো।
৩. ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু ওয়েব ব্যাসিক এবং প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা থাকলে ভালো। তবে প্রোগ্রামিং ভাষা খুব বেশি দরকার নেই। যাদের বিভিন্ন ব্লগে লেখার অভ্যাস আছে তারা এক্ষেত্রে সামান্য হলেও এগিয়ে আছেন।
৪. লেখার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে কার্যকর উপায় হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে বেশি বেশি লেখা এবং ভালো কোন লেখক বা সম্পাদকের দ্বারা সম্পাদনা করিয়ে নিজের ভুলগুলো চিহ্নিত করা।
২য় স্তর
১. প্রথমে আপনার লেখার (ফিচার, নিউজ, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি) বিষয় নির্ধারণ করুন।
২. আপনার বাছাই করা বিষয়ে কিছু নমুনা লেখা লিখে ফেলুন। এক্ষেত্রে নিজের কোন ওয়েবসাইট থাকলে তাতে লেখাগুলো প্রকাশ করুন। নিজের ওয়েবসাইট না থাকলে হতাশার কিছু নেই। বর্তমানে অনেক ফ্রি ওয়েবসাইট (বিভিন্ন ব্লগ, ওয়ার্ডপ্রেস.কম ইত্যাদি) পাওয়া যাবে যেখানে আপনি চাইলেই লিখতে পাবেন।
৩. এবার ফ্রিল্যান্সারদের লেখার দায়িত্বে আছেন এমন দুয়েকজন সম্পাদক/সহ-সম্পাদক খুঁজে বের করুন।
৪. তাদেরকে আপনার পরিচয় প্রদান করে আপনি যে লিখতে ইচ্ছুক তা জানিয়ে চিঠি/মেইল করুন। তাদের কাছে অ্যাসাইনমেন্ট চাইতে পারেন। তবে অবশ্যই তাদের কাছে আপনার লেখার দুয়েকটি নমুনা কপি পাঠাবেন। তাছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে লেখার আইডিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পাদকের সঙ্গে ফোনে বা মেইলে আলোচনা করতে পারেন।
৫. এসব কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আপনার যোগাযোগ বাড়ান এবং আপনাকে লেখার সুযোগ দিতে অনুরোধ করুন। একই সময়ে আপনার ব্লগ কিংবা সাইটে নিয়মিত লিখতে থাকুন।
উল্লিখিত উপায়ে কাজ করলে অবশ্যই আপনি লেখার সুযোগ পাবেন, একথা বলা যায় নির্দ্বিধায়।
তৃতীয় স্তর
এবার বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় আপনার সিভি পাঠান। সাথে সাথে হাউসগুলোতে আপনার যোগাযোগ অব্যাহত রেখে নিয়মিত সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ পেতে চেষ্টা করুন।
অনলাইন সাংবাদিকতা : নৈতিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা
অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সংবাদকর্মীকে অবশ্যই দৃঢ় নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন হওয়া উচিত। কারণ অনলাইন বর্তমানে একটি গবেষণা সম্পদ হিসেবে কাজ করছে। ফলে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য দিয়ে কোনো লেখা দিলে তা ইতিহাস বিকৃতির চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এছাড়া একজন পাঠক একই সময়ে অনেকগুলো সংবাদপত্র পড়তে পারে। ফলে সঠিক তথ্য প্রদান না করলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে এবং আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Earn PHD Degree

অর্জন করুন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি

 পিএইচডি করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে যারা গবেষণা, শিক্ষকতা, এনজিও প্রভৃতি সেক্টরে কাজ করছেন বা করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ২ বছর মেয়াদী (সর্বোচ্চ ৪ বছর) এমফিল কোর্স এবং ৩ বছর মেয়াদী (সর্বোচ্চ ৫ বছর) পিএইচডি কোর্স চালু আছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৫টির মতো। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয় ২০০০ সালের পরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। সেগুলো অল্প কিছু বিভাগ নিয়ে চলছে। সুতরাং প্রতিষ্ঠিত পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই মূলতঃ বাংলাদেশে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির জন্য আলোচনাযোগ্য হতে পারে।
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষনাধর্মী কাজ হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বর্তমানে ৫টি কৃষি শিক্ষার উচ্চতর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর কথা না বললেই নয়। এখানে গবেষণার কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এখানে কৃষিভিত্তিক বিশ্ব পর্যায়ের অনেক গবেষণা হচ্ছে প্রতিবছর। বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু আছে। তবে এ আলোচনায় আমরা বাংলাদেশের মূলধারার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজখবর দেয়ার চেষ্টা করছি-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমফিল ও পিএইচডিতে ভর্তির যোগ্যতা
এমফিল ডিগ্রিতে ভর্তির জন্য প্রার্থীকে কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবশ্যই প্রথম শ্রেণী বা ২য় শ্রেণীর মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকে কমপক্ষে ২য় বিভাগ বা শ্রেণী থাকতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল যোগ্যতা শিথিল করতে পারে।
পিএইচডি প্রার্থীকে অবশ্যই এমফিল ডিগ্রির অধিকারী হতে হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র এমফিল ১ম বর্ষ সফলভাবে শেষ করেছেন, তাদের সুপারভাইজারের সুপারিশে তারা একে পিইচডিতে রূপান্তর করতে পারেন। অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বা কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেও এমফিল ছাড়াই ভর্তির আবেদন করা যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক স্বীকৃত মানসম্মত জার্নালে প্রকাশিত লেখা প্রদর্শন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকের পর্যাপ্ত যোগ্যতা নেই তাদের ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশে এসব শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
পরীক্ষা ও গবেষণার নিয়ম-কানুন
এমফিল ডিগ্রির শিক্ষার্থীকে ১ম বর্ষ শেষে ২০০ নম্বরের একটি লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। প্রতিটি কোর্সের কোর্স টিচারসহ ২ জন পেপার সেটার এবং পরীক্ষক থাকবেন। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর হলো ৫০%। পাস নম্বর পেতে ব্যর্থ বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাওয়া যাবে। যেসব ছাত্র ভালো ফলাফল নিয়ে এমফিল কোর্সগুলোর ১ম  বর্ষ শেষ করেছেন তাদের কোর্সটিকে সুপারভাইজার এবং বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির পরামর্শে পিএইচডি প্রোগ্রামে রূপান্তর করা যেতে পারে।
কোনো প্রার্থী যদি বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত হন তবে পিএইচডি-র কাজে যোগদানের সময় কমপক্ষে ১ বছরের ছুটি নিতে হবে। তবে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে এই শর্ত শিথিল করা যায়।
একজন গবেষক হিসেবে পিএইচডি স্কলারকে সুপারভাইজারের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজ প্রদর্শন করতে হয় এবং সুপারভাইজারের নিকট তার ছয় মাসের কাজের রিপোর্ট পেশ করতে হয়। পিএইচডি ডিগ্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন চার বছর মেয়াদের জন্য হয়। তবে তা আরও চার বছরের জন্য নবায়ন করা যায়। পিএইচডি স্কলারকে প্রতিবছর বিভাগে তার গবেষণার একটি বিষয়ে কমপক্ষে একটি সেমিনার আয়োজন করতে হয়। গবেষণার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের জন্য পূর্বশর্ত  হলো বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশ।
গবেষণামূলক প্রবন্ধ
এম.ফিল ডিগ্রির জন্য একজন প্রার্থীকে তার সুপারভাইজারের মাধ্যমে তার গবেষণা কাজ দ্বিতীয় বর্ষের শেষে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক গ্রন্থ পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষা করবেন। যেখানে থাকবেন ৩ জন পরীক্ষক, একজন বাইরের পরীক্ষক এবং সুপারভাইজার। প্রার্থীর উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার পর রেজিস্ট্রেশনের কমপক্ষে ২ বছরের পর পেশকৃত থিসিসের স্বীকৃতি হিসেবে Ph.D. ডিগ্রি দেয়া হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ বাংলাদেশের সমাজ, জীবন ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় গবেষণার জন্য একটি উচ্চতর কেন্দ্র হিসেবে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য এটি হলো এ ধরনের একমাত্র জাতীয় কেন্দ্র যেখানে মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন এবং অনুদ্ভাবিত অন্যান্য বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা করা হয়ে থাকে।
লিখিত ও মৌখিক ভর্তি পরীক্ষা এবং অতীত শিক্ষাগত রেকর্ডের ভিত্তিতে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের মনোনীত করা হয়। বর্তমানে গবেষণারত বা শিক্ষকরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এমফিলের জন্য ৩ মাসের মধ্যে এবং পিইচডির জন্য ৬ মাসের মধ্যে একটি সেমিনারে গবেষণা প্রস্তাব উত্থাপন করতে হবে।
এমফিলের জন্য ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে এবং পিইচডির জন্য ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৬ বছরের মধ্যে একটি থিসিস জমা দিতে হয়। শিক্ষাবর্ষ প্রতিবছর ১ জুলাই শুরু হয় এবং শেষ হয় ৩০ জুন।
ইনস্টিটিউট পূর্নকালীন অধ্যয়নের জন্য বেশ কিছু ফেলোশিপ প্রদান করে। ভর্তির সময় থেকে ফেলোশিপের প্রদেয় কার্যকর হয়। শুরুতে একজন এমফিল ফেলো ২ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা পান এবং পিএইচডি ফেলো ৩ বছরের জন্য প্রতি মাসে ২০০০ টাকা পান। ফেলোশিপ প্রাপ্তদের একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়। বাজেট বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। রিসার্চ ফেলোদের জন্য কিছু রিসার্চ গ্রান্ট দেয়া হয়। অনুমোদিত গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে UGC বা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে স্টাইপেন্ড নিয়েও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া যায়।
এছাড়া জেনেটিক্স এন্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হলো ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স। জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের সহায়তায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি।
এছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এমফিল ও পিএইচডি’র সুযোগ তো আছেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক অনুষদে গবেষণা চালু আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কুলার অনুসারে কোনো চাকরিরত প্রার্থীকে পিএইচডিতে গবেষক হিসেবে ভর্তি হওয়ার জন্য ক্যারিয়ারে সব ১ম বিভাগ না থাকলে কোনো অনুমোদিত কলেজ বা গবেষনামূলক প্রতিষ্ঠানে ৩ বছরের এবং এমফিলের জন্য ক্যারিয়ারে সব ১ম বিভাগ না থাকলে কোনো অনুমোদিত কলেজ বা গবেষনামূলক প্রতিষ্ঠানে ২ বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এমফিলের জন্য কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলে।
পিএইচডি’র ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী যদি অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল করে থাকেন তবে তা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদন করতে হয়। ইউরোপীয় কমিশনের ফান্ডে পরিচালিত সম্পূর্ন বিনা খরচে পড়ার সুযোগসম্পন্ন ইরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তিতে বাংলাদেশের একটি পার্টনার বিশ্ববিদ্যালয় হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। এটি নির্মিত হলে বিজ্ঞান গবেষণায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অফুরন্ত সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রমের সুবিধার্থে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো হলো: ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ, ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন  রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং, নজরুল রিসার্চ সেন্টার, রিসার্চ সেন্টার ফর ম্যাথমেটিকাল এন্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানকার গবেষণা কাঠামো অনেক মানসম্পন্ন।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)
এটি বাংলাদেশের একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকরা এর মাধ্যমে ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পান।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি অনুষদ আছে। এগুলো হলো: সিকিওরিটি এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজ অনুষদ, টেকনিক্যাল স্টাডিজ অনুষদ, মেডিক্যাল স্টাডিজ অনুষদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ এবং জেনারেল স্টাডিজ অনুষদ। এখন ২০১২-১৩ বর্ষে ২য় ব্যাচের কার্যক্রম চলছে।
এমফিলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর ন্যূনতম একটি স্বীকৃত গবেষণাধর্মী প্রকাশনা কিংবা মাঠপর্যায়ের সফল গবেষণা থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। আর পিএইচডির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত জার্নালে ন্যূনতম ২টি গবেষণামূলক প্রবন্ধ থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ভর্তির জন্য শুধু গবেষণা প্রস্তাব দিলেই হয় না। লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে পাস করতে হয়।
এখানে পূর্ণকালীন অধ্যয়নে অনেক সংখ্যক ফেলোশীপ দেয়া হয়। ভর্তির সময় থেকে ফেলোশীপের অর্থ প্রদান করা হয়। এমফিল ফেলোকে শুরুতে প্রতি মাসে ২ বছরের জন্য ৭৫০০ টাকা করে দেয়া হয় এবং পিএইচডি ফেলোকে ৩ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১২৫০০ টাকা করে দেয়া হয়। ফেলো গ্রহণকারীকে অবশ্যই একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হবে। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ ফেলোদেরকে তাদের চূড়ান্ত থিসিসের কাজে কিছু গবেষণা ভাতা প্রদান করা হয়।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে বলবো, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি এখন আর সৌখিনতা নয়। বাংলাদেশে যেমন বাড়ছে ক্যারিয়ার সচেতন ব্যক্তির সংখ্যা তেমনি দ্রুতই বাড়ছে এমফিল-পিএইচডি ছাত্রের সংখ্যা। গত এক দশকে গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়েছে এবং গবেষণার সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। উপরের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নতুন কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের উচ্চতর গবেষণার কার্যক্রম চালু আছে। তাই আপনিও এখনই ভেবে দেখুন যে দেশে অর্জিত এ ডিগ্রি আপনার ক্যারিয়ারে কোনো সাহায্য করবে কিনা।